Sunday, January 3, 2016

পদার্থের আবস্থা






আমরা সবাই জানি-পদার্থের অবস্থা ৪ ধরণের হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে-কঠিন, তরল, গ্যাস ও প্লাজমা। এবার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন পদার্থের পঞ্চম অবস্থা। আর এটা আবিষ্কৃত হয়েছে কোথায় জানেন? মুরগীর চোখের ভেতরে!
বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম দেয়া হয়েছে 'disordered hyperuniformity'। এ অবস্থায় পদার্থের কণাগুলো এমনভাবে সজ্জিত হয়, যাতে পদার্থটি ক্রিস্টাল বা স্ফটিক এবং তরল- এ দুই ধরণের অবস্থাই প্রদর্শন করে।
রোস্টার জাতের মুরগীরা আগে থেকেই ডিম, স্যুপের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল। এবার এর চোখে এরকম পদার্থ পাওয়া গেল, যেটা স্ফটিকের দক্ষতা ও তরলের নমনীয়তা-এ দুটির মেলবন্ধনে আলোক নিঃসরণ ঘটাতে সক্ষম। নতুন এ আবিষ্কার Physical Review E তে প্রকাশিত হয়েছে, এর ফলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, কোন বিশেষ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোতে কাজ করতে কিংবা আলোকে প্রতিরোধ করার ডিটেকটর উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

মুরগীদের চোখের অতিক্ষুদ্র আলোক-সংবেদী ‘কোণ’ কোষে গবেষকরা পদার্থের এ নতুন অবস্থার সন্ধান পান। চোখের কোণ কোষ আলোর রঙের উপলব্ধিতে সাহায্য করে। মুরগীসহ বিভিন্ন দিবাচর পাখির ক্ষেত্রে এ চার ধরণের কোষগুলো বেগুনি, নীল, সবুজ ও লাল রঙ আলো নির্ণয় করে। পঞ্চম আরেক ধরণের কোণ কোষ নির্ণয় করে আলোর মাত্রা। এদের আকৃতিও হয় ভিন্ন ভিন্ন ধরণের। প্রাণীদের রেটিনাতে এ কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট সজ্জায় বিন্যস্ত থাকে। পোকাদের ক্ষেত্রে হয় এটা ষড়ভূজাকৃতির।
কিন্তু মুরগীদের ক্ষেত্রে এ কোষগুলোর অবস্থা থাকে একদমই ভিন্ন ধরণের। সেখানে কোণগুলো এলোমেলোভাবে বিন্যস্ত থাকে। এর থেকে বোঝা যায়, মুরগীদের চোখের কোণ কোষের এ বিশেষ অবস্থাটি আসলে এদের জন্য নির্দিষ্ট। আর এ বিশেষ অবস্থার নাম দেয়া হয়েছে disordered hyperuniformity । এ বিশেষ অবস্থায় পদার্থ স্ফটিক ও তরল-উভয় ধরণের আচরণ করে। এর আগে তরল হিলিয়াম ও সাধারণ প্লাজমার মাঝে এ ধরণের পদার্থকণা দেখা গেলেও কোনো জীবদেহে পদার্থের পঞ্চম অবস্থার আবিষ্কার এটাই প্রথম।
বিভাগ:




                   Writer
Md.Alif  Hossain

No comments:

Post a Comment